আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা - আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার নিয়ম


আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক। আপনারা যারা আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ এখানে আমরা আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আপনি যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকেন তাহলে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

কন্টেন্ট সূচিপত্রঃ আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা - আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার নিয়ম

আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা - আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার নিয়মঃ ভূমিকা

আমরা অবসর সময় পার করি তখন একটি ইবাদত রয়েছে যেটি করলে অনেক লাভ আছে। আজকের এই আর্টিকেলে সব সময় পড়ার জন্য একটি বিশেষ শব্দ সম্পর্কে আলোচনা করব। আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা সহ, আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার নিয়ম, আস্তাগফিরুল্লাহ এর অর্থ কি? আস্তাগফিরুল্লাহ উচ্চারণ, আস্তাগফিরুল্লাহ দোয়া বাংলা উচ্চারণ, আস্তাগফিরুল্লাহ কখন পড়তে হয়? এ বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

আস্তাগফিরুল্লাহ এর অর্থ কি?

মুসলিম হিসেবে আস্তাগফিরুল্লাহ এই শব্দটির সাথে পরিচিত নয় এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমরা যে কোন ভুল কাজ করে ফেললে সেটা নিজের অজান্তেই হোক আবার জেনেশুনে হোক তখন আমরা আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ে থাকি। কিন্তু অনেকেই আস্তাগফিরুল্লাহ এর অর্থ কি? বিষয়টি সম্পর্কে জানেনা।

আরো পড়ুনঃ আলহামদুলিল্লাহ শব্দের অর্থ কি? এর প্রতিউত্তরে কি বলতে হয়?

আস্তাগফিরুল্লাহ এর অর্থ হল - হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই (অতএব আমাকে ক্ষমা করুন) তাহলে আপনি যদি সব সময় আস্তাগফিরুল্লাহ উচ্চারণ করেন তাহলে আপনি সবসময় আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইছেন। আশা করি আস্তাগফিরুল্লাহ এর অর্থ কি? বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা

আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা অনেকগুলো রয়েছে। পাপ মোচন এর একমাত্র উপায় হল ইস্তেগফার তা আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। এছাড়া এর কোন বিকল্প নেই। পাপে ভুলে মানুষ যখন হুশ হারিয়ে ফেলে তখন তওবা ইস্তেগফারের মাধ্যমে স্রষ্টার নিকট ফিরে গিয়ে মানুষ সঠিক পথের দিশা খুঁজে পাই। তাই আমাদের সব সময় আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। নিচে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা আলোচনা করা হলো।

১। আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার মাধ্যমে হতাশা ও দুশ্চিন্তা দূর হয়। এটি আল্লাহতালার রহমত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

২। আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার মাধ্যমে দোয়া কবুল হয় রিজিকের দরজা খুলে যায়। তাই বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া উচিত।

৩। বেশি বেশি ইস্তেগফার অর্থাৎ আস্তাগফিরুল্লাহ পড়লে জ্ঞান ও কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই আমাদের যত বেশি সম্ভব আস্তাগফিরুল্লাহ বা ইস্তিগফার করা উচিত।

৪। আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহতালা উত্তম সন্তান, সম্পদ ও জীবিকা দ্বারা সম্মানিত করেন।

৫। আল্লাহ ও তার বান্দার মাঝে যে দূরত্ব আছে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার মাধ্যমে তা কমে যায়।

৬। আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠকারীর কাছে দুনিয়াকে খুব তুচ্ছ করে দেওয়া হয়।

৭। মানব ও জিন শয়তানের কুপ্রভাব থেকে তাকে হেফাজত করা হয়।

৮। আল্লাহতালার নৈকট্য অর্জন করা যায়। তওবা করার ফলে আল্লাহ তা'আলা আনন্দিত হয়।

৯। মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা তার জন্য সুসংবাদ নিয়ে আসে।

১০। কিয়ামতের দিন মানুষ যখন অস্থির থাকবে তখন আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠকারী ডানপন্থী মুত্তাকীদের দলে থাকবে।

আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার নিয়ম

আপনি যদি আপনার গুনাহ মোচনের জন্য আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে চান তাহলে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার নিয়ম রয়েছে। অবশ্যই আমাদের আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার নিয়ম অনুযায়ী পড়তে হবে।

আরো পড়ুনঃ কেউ আলহামদুলিল্লাহ বলে উত্তর কি বলতে হয় জেনে নিন

১। আস্তাগফিরুল্লাহ বলা। রাসূলুল্লাহ সাঃ নামাজ শেষে ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন।

২। হাদিসে হযরত মুহাম্মদ সাঃ এরশাদ করেছেন, " যে ব্যক্তি আস্তাগফিরুল্লাহ আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি" দোয়াটি পাঠ করবে, সে জিহাদের ময়দান হতে পরায়ন করলেও তাকে ক্ষমা করা হবে।

৩। হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বলেন, আমি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাইতে কাউকে অধিক পরিমাণে এই ইস্তিগফার বলতে শুনিনি "আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি"

৪। সুবানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি হযরত মুহাম্মদ সাঃ দোয়াটি খুব বেশি পড়তেন। এমনকি হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর ইন্তেকালের আগেও এই দোয়া অনেকবার করেছেন।

আস্তাগফিরুল্লাহ উচ্চারণ

আস্তাগফিরুল্লাহ এর সঠিক উচ্চারণ হলো আস্তাগফিরুল্লাহ এবং ভুল উচ্চারণ হলো আস্তাকফিরুল্লাহ। সঠিক উচ্চারণ আস্তাগফিরুল্লাহ এর অর্থ হলো " হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই" এবং ভুল উচ্চারণ আস্তাকফিরুল্লাহ এর অর্থ হলো " হে আল্লাহ আমি কাফের তথা অস্বীকারকারী হতে চাই"। তাহলে আমরা সব সময় সঠিক উচ্চারণ আস্তাগফিরুল্লাহ উচ্চারণ করব।

আস্তাগফিরুল্লাহ দোয়া - আস্তাগফিরুল্লাহ দোয়া বাংলা উচ্চারণ

আমরা অনেকেই আস্তাগফিরুল্লাহ দোয়া বাংলা উচ্চারণ করতে পারিনা। যেহেতু এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দোয়া যা সবসময় মুখে বলা যায়। নিচে আস্তাগফিরুল্লাহ দোয়া বাংলা উচ্চারণ উল্লেখ করা হলো

অনেক সময় আমরা ভুলবশত আস্তাকফিরুল্লাহ বলে থাকি কিন্তু এটি সম্পূর্ণরূপে ভুল উচ্চারণ। ভুল উচ্চারণ করার ফলে শব্দটির অর্থ সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন হয়ে যায়। এর সঠিক উচ্চারণ হলো আস্তাগফিরুল্লাহ। এর অর্থ হলো আল্লাহ তা'আলা আমাকে ক্ষমা করুন। তাহলে এবার থেকে আমরা আস্তাগফিরুল্লাহ সঠিক উচ্চারণ করব।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এরশাদ করেছেন, " যে ব্যক্তি আস্তাগফিরুল্লাহ আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি" দোয়াটি পাঠ করবে, সে জিহাদের ময়দান হতে পরায়ন করলেও তাকে ক্ষমা করা হবে।

আস্তাগফিরুল্লাহ -- অর্থঃ আমি আল্লাহর ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।

আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়াতুবু ইলাইহি -- অর্থঃ আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।

রব্বিগফিরলি ওয়াতুবু ইলাইহি ইন্নাকা আন্তাত তাওয়াবুর রাহিম -- অর্থঃ হে আমার প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন। আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী রহমশীল

আস্তাগফিরুল্লাহ কখন পড়তে হয়?

আপনি যদি আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা জেনে থাকেন তাহলে সব সময় একটি পড়তে ভুল করবেন না। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটি বিষয় অজানা থেকে যায় আস্তাগফিরুল্লাহ কখন পড়তে হয়? এই বিষয়টি। নিচে আস্তাগফিরুল্লাহ কখন পড়তে হয়? তা আলোচনা করা হলো।

আরো পড়ুনঃ মাশাআল্লাহ শব্দের অর্থ কি - মাশাআল্লাহ জবাব কি

হাদীস শরীফে এসেছে নবীজি হযরত মুহাম্মদ সাঃ প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সালাম ফিরানোর পরে এই দোয়া তিনবার পাঠ করতেন। তবে শুধু নামাজের পড়েই নয়, যে কোন সময় দোয়াটি পাঠ করা যায়। এই ইস্তেগফার কমপক্ষে ৭০ থেকে ১০০ বার পাঠ করা উচিত। আমাদের প্রিয় নবী সাঃ প্রতিদিন কমপক্ষে ৭০ - ১০০ বার পাঠ করতেন।

আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা - আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার নিয়মঃ উপসংহার

আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপকারিতা, আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার নিয়ম, আস্তাগফিরুল্লাহ কখন পড়তে হয়? আস্তাগফিরুল্লাহ দোয়া বাংলা উচ্চারণ, আস্তাগফিরুল্লাহ এর অর্থ কি? বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। প্রিয় বন্ধুরা আশা করি আপনারা উক্ত বিষয়গুলো জানতে পেরেছেন। আপনাকে বিষয়গুলো জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। আপনার এবং আপনার পরিবারের সুস্থতা কামনা করে আজকের মত এখানেই শেষ করছি ধন্যবাদ।২০৮৭৬

Popular posts from this blog

যৌন শক্তি বৃদ্ধির দোয়া - শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির দোয়া

কি খেলে বীর্য অনেক ঘন হয় এবং দ্রুত বীর্য পাত বন্ধ হয়?

গণতন্ত্রের সুফল ও কুফল - গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য